সর্বশেষ
বৃহঃস্পতিবার ১৬ই আশ্বিন ১৪২৭ | ০১ অক্টোবর ২০২০

চিঁড়ে আর বাংলাদেশ নিয়ে সরগরম ভারত

রবিবার, জানুয়ারী ২৬, ২০২০

65016278_621976134966691_1736146521163825152_n.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

একটি জনপ্রিয় ও সহজলভ্য খাবার চিঁড়ে। সহজলভ্য এই খাবারটিই ভারতের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। এই চিরাচরিত খাবার খেতে গেলে এখন দুবার ভাবতে হবে ভারতীয়দের। কারণ, কাউকে চিঁড়ে খেতে দেখলে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী শাসকদল বিজেপির এক মন্ত্রী তাকে হয়ত বাংলাদেশি ভেবে বসতে পারেন।

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির প্রভাবশালী নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয় বলেছেন, তার বাড়িতে কাজ করতে আসা কয়েকজন শ্রমিককে তিনি বাংলাদেশি বলে চিনে ফেলেছেন, কারণ তারা পোহা (চিঁড়ের তৈরি) খাচ্ছিলেন।

পোহা হচ্ছে চিঁড়ে দিয়ে তৈরি একরকম পোলাওয়ের মতো খাবার- যা ভারতের মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাত, ওড়িশা অথবা দক্ষিণের কর্ণাটকে জনপ্রিয় পোহা। অনেকটাই বাঙালিদের চিঁড়ের পোলাওয়ের মতো এই পোহা- তবে একটু ঝাল। বিজেপি নেতার এ মন্তব্যের পরই সরগরম হয়ে উঠেছে ভারত।

অনেকেই ব্যঙ্গ করে বলতে শুরু করেছেন, চিঁড়ে যে শুধু বাংলাদেশিরাই নন ভারতের নানা অংশের লোকেরাও খান- এই তথ্য তো বিজয়বর্গীয়র অজানা থাকার কথা নয়। কারণ তিনি যে অঞ্চলের মানুষ, বিশেষ করে তার জন্ম এবং রাজনীতির শুরু যেখানে- মধ্যপ্রদেশের সেই ইন্দোর শহরে চিঁড়ে দিয়ে তৈরি পোহাকে একরকম জাতীয় খাদ্যই বলা যায়।

টুইটারে স্বপ্না মদন নামে একজন লিখেছেন, ‘আমি পাঞ্জাবী, আমি এখন পোহা খাচ্ছি, এর সাথে বাংলাদেশের কোন সম্পর্ক নেই।’

অনেকেই পোহা আর চিঁড়ের নানা খাবারের ছবিও পোস্ট করছেন, কেউ আবার বানিয়েছেন ছড়া! নূপুর রঞ্জন মিশ্র নামে একজন প্রশ্ন করেছেন, পোহা আবার কবে থেকে বাংলাদেশী খাবার হলো?

খাদ্য-গবেষক ও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক পুষ্পেশ পন্থ বলেন, ‘চিঁড়ে যে ভারতের সব প্রান্তেই খাওয়া হয়- এই তথ্য তো বিজয়বর্গীয়র অজানা থাকার কথা নয়। এমনকি মহাভারতেও চিঁড়ের কথা পাওয়া যায়। কৃষ্ণর কাছে চিঁড়ে নিয়ে গিয়েছিলেন সুদামা। মহাভারতের কাহিনী তো পশ্চিমভারতের। বিজয়বর্গীয়র কথা যদি মানতে হয় তাহলে কৃষ্ণ বা সুদামাও বাংলাদেশি ছিলেন!’

সকালবেলায় পোহা আর জিলিপি একসঙ্গে খেতে ভালবাসেন মধ্যপ্রদেশের মানুষ, তাই ডিশটার নামই হয়ে গেছে পোহা-জলেবি। যদিও খাবারটার উৎস অবশ্য ইন্দোর লাগোয়া মহারাষ্ট্রে। সর্ষে আর জিরে ফোঁড়ন দিয়ে তাতে বেশ ভাল পরিমাণে কারিপাতা, পেঁয়াজ, লঙ্কা ভেজে নিয়ে তাতে ভেজানো চিঁড়ে ঢেলে দেওয়া হয়। তারপরে তাতে হলুদ আর লবণ দিয়ে মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যায় পোহা। তাতে ছড়িয়ে দিতে হয় লেবুর রস।

পুষ্পেশ পন্থ জানান, ‘খাবারটার উৎস মহারাষ্ট্রে। সেখানে কান্দা- পোহা নামে পরিচিত চিঁড়ের এই খাবার। ছত্রপতি শিবাজীর সেনাপতি হোলকারদের মাধ্যমে পোহা ইন্দোরে আসে, আর সিন্ধিয়াদের হাত ধরে তা পৌঁছয় গোয়ালিয়ারে। আর এখন তো ভারতের নানা রাজ্যেই অতি জনপ্রিয় খাবার হয়ে গেছে এই পোহা।’

ইন্দোর বা মধ্যপ্রদেশের শহরে-গ্রামে- অলিতে-গলিতে দেখা যায় চটজলদি খাবার এই পোহা-জলেবির দোকান। শুধু মধ্যপ্রদেশ নয়, আজকাল অনেক নামী-দামী হোটেলেও সকালের জলখাবারের মেনুতে উঠে এসেছে এই পোহা। এমনকি অনেক বেসরকারি বিমানেও ইনস্ট্যান্ট পোহা পাওয়া যায়। তাই চিঁড়ে যে শুধু বাংলাদেশিরা খান না, এটা বিজয়বর্গীয় ছোট বয়স থেকেই নিশ্চয়ই জানেন।

মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে বিবিসির সংবাদদাতা সুরেইয়া নিয়াজি বলছিলেন, ‘বিজয়বর্গীয় যে শহরে মন্তব্যটা করেছেন, সেখানকার মানুষের সকাল শুরু হচ্ছে পোহা-জলেবি ছাড়া, এটা ভাবাই যায় না। ইন্দোরেই সবথেকে ভাল পোহা হয়। কিন্তু সেই ইন্দোরেই কেন তিনি শ্রমিকদের চিঁড়ে দিয়ে বানানো পোহা খেতে দেখে তাদের বাংলাদেশি বলে মনে করলেন, এটা খুবই আশ্চর্যের।’

সামাজিক মাধ্যমেও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করছেন অনেকে। আবার আগামী সপ্তাহে হিন্দু বাঙালীদের যে সরস্বতী পুজো আছে, তার পরের দিন দেবী মূর্তির সামনে দই-চিঁড়ে দেওয়াটা একটা রীতি। কেউ মজা করে বলছেন, এবার তো তাহলে দেবীকে দই-চিঁড়ে দেওয়া যাবে না!

পুষ্পেশ পন্থের কথায়, ‘ধনীরাও আজকাল পোহা খায় ঠিকই, কিন্তু চিঁড়ে আদতে গরীব মানুষের সকালের খাদ্য। আর কিছু যোগাড় না করতে পারলে শুধু জল দিয়েই চিঁড়ে খেয়ে নেয় তারা। রুটির দাম বেশি, আর তার সঙ্গে ডাল বা সব্জি কিছু একটা লাগেই। এভাবে গরীব মানুষের খাবার নিয়ে বাংলাদেশি বলে অপমান করার অধিকার কারও নেই।’

তবে সমালোচনা শুরু হওয়ায় বিজয়বর্গীয় এখন বলছেন, যে তার মন্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি


ঢাকা, রবিবার, জানুয়ারী ২৬, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // কে এইচ এই লেখাটি ২৮১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন