সর্বশেষ
শনিবার ৯ই আশ্বিন ১৪২৯ | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

এই চার খাবারে বিপদ আসছে, শঙ্কায় উৎপাদকেরা

রবিবার, এপ্রিল ১২, ২০২০

observerbd.com_1586425246.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :

মুরগি, ডিম, দুধ ও মাছের দাম অনেকটা হাতের নাগালেই আছে। তবে দামের এই সুখবরের পেছনে বড় বিপদ ধেয়ে আসছে। করোনা সংকটের কারণে গত দুই সপ্তাহে এসব খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে বড় বিপর্যয় নেমে এসেছে, যার প্রাথমিক প্রভাব হিসেবে এসব পণ্যের দাম কমছে। কারণ, উৎপাদনের তুলনায় ভোগ অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। তবে আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে পাইকারি বাজারে মুরগি আর ডিমের দামে উল্টো চিত্র দেখা যেতে পারে বলে এসব খাতের উদ্যোক্তারা আশঙ্কা করছেন।

বাজারে ১০০ টাকায় এক কেজি ব্রয়লার মুরগি পাওয়া যাচ্ছে। ফার্মের ডিমের হালিও ২৫ টাকায় নেমে এসেছে। এই হিসাব সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি)। আর গ্রামে তো দুধ পানির চেয়েও সস্তায় মিলছে।এদিকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে করোনা মোকাবিলায় এসব প্রাণিজ আমিষ খাওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফলে, ভোক্তা হিসেবে এই খাদ্যের দাম কমে আসা নিঃসন্দেহে খুশির খবর ছিল।

তবে বাংলাদেশ পল্লী কর্ম–সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) থেকে পোলট্রি ও ডেইরি খাতে করোনাভাইরাসের প্রভাব নিয়ে একটি প্রতিবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে পোলট্রি খামারগুলো বিক্রি না হওয়ায় এক দিনের লাখ লাখ বাচ্চা মাটিতে পুঁতে ফেলছে। ডিম ফেলে দিচ্ছে। এই খাতে প্রতিদিন নয় কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। একদিকে লকডাউনের কারণে ভোক্তারা এসব খাদ্য কিনতে পারছে না, অন্যদিকে উদ্যোক্তারা বিক্রি করতে না পেরে ফেলে দিচ্ছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, দেশে বছরে ৯৯ লাখ টন তরল দুধের দরকার হয়, যার ৭০ শতাংশ দেশের খামারগুলোয় উৎপাদিত হয়। বাকিটুকু আমদানি করে চাহিদা মেটানো হয়। বর্তমানে দেশে দিনে ১২০ থেকে ১৪০ লাখ লিটার তরল দুধ উৎপাদিত হচ্ছে, যার বেশির ভাগই বিক্রি হচ্ছে না। খামারিরা এসব দুধ বিক্রি করে গরুর খাবার ও নিজেদের বাজার করে থাকেন। তাই বিক্রি না হওয়ায় গরু ও খামারি উভয়েই বিপদে পড়েছেন।

দেশের মৎস্য খাত নিয়ে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, সাধারণত এপ্রিল মাসে দেশের মাছের ঘের ও পুকুরগুলোয় পোনা এনে রাখা হয়। মে থেকে বৃষ্টি শুরু হলে মাছগুলো বড় হতে থাকে। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে বেশির ভাগ মাছের খামারি পোনা সংগ্রহ এবং তা পুকুরে ছাড়তে পারছেন না। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে তা মাছের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এ প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী স ম রেজাউল করিম বলেন, মাঠপর্যায়ে মুরগির বাচ্চা পুঁতে ফেলা এবং দুধ ফেলে দেওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। তিনি আরও বলেন, যা ক্ষতি হওয়ার তা তো হয়েই চলেছে। এত বড় বিপদ যে আসবে, তা তো আগে থেকে আঁচ করা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশকেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী করোনা সংকট মোকাবিলায় যে আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছেন, তা থেকে এই খাতের উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়া হবে। মন্ত্রী খামারিদের খামার বন্ধ না করে যেভাবে হোক চালু রাখার পরামর্শ দেন।


ঢাকা, রবিবার, এপ্রিল ১২, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // এ এম এই লেখাটি ৫৫৭৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন