সর্বশেষ
মঙ্গলবার ৬ই মাঘ ১৪২৭ | ১৯ জানুয়ারি ২০২১

এমসি কলেজে গণধর্ষণ: আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৩, ২০২০

25.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

স্বামীর সঙ্গে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মুরারিচাঁদ কলেজ (এমসি) বেড়াতে যাওয়া এক নববধূকে ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের দুই মাস ৮ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। ওই ঘটনায় গ্রেফতার আট ছাত্রলীগ কর্মীকে অভিযুক্ত করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী-৩) আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য এ অভিযোগপত্র জমা দেন।

এর আগেই বুধবার (২ ডিসেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার বি এম আশরাফ উল্যাহ তাহের।

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এ ঘটনায় করা মামলায় আট আসামি ছাত্রলীগের সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম তারেক, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম, মাইফুজুর রহমান মাসুম, রাজন ও আইনুল কারাগারে রয়েছে। এর আগে ২৯ নভেম্বর দুই মাস পর আসামিদের ডিএনএ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তাতে ধর্ষণের সংশ্লিষ্টতা মিলেছে বলে জানানো হয়।

গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট এমসি কলেজের হোস্টেলে ওই গৃহবধূকে গণধর্ষণ করেন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। অভিযুক্ত এসব কর্মীরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রণজিৎ সরকারের অনুসারী বলে জানা গেছে।  

এ ঘটনায় ছয় জনকে আসামি করে এসএমপির শাহপরাণ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নির্যাতিত ওই তরুণীর স্বামী বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিদের ডিএনএ টেস্টের প্রতিবেদন না পাওয়ায় অভিযোগপত্র দাখিলে বিলম্ব হচ্ছে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারের ডিএনএ ল্যাবে নমুনা সংগ্রহের পর পাঠানো হয় ঢাকার ল্যাবে। সেখান থেকে নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন প্রথমে আদালতে এসে পৌঁছায়। পরবর্তীতে এ প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার হাতে এসে পৌঁছে রোববার (২৯ নভেম্বর)। ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ সাক্ষীদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করে গত ১৬ অক্টোবর ১৭৬ পৃষ্টার একটি তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্ট বেঞ্চে জমা দেওয়া হয়েছে। যার শুনানি হয় ২০ অক্টোবর। এদিন শুনানি শেষে প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন হাইকোর্ট বেঞ্চ।

তাছাড়া গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত চার আসামির ছাত্রত্ব এবং সার্টিফিকেট বাতিল করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। পাশাপাশি তাদের স্থায়ীভাবে এমসি কলেজ থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন- সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, মাহফুজুর রহমান মাসুম ও রবিউল হাসান।

এর আগে ঘটনার কয়েক দিন পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গণধর্ষণের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি এমসি কলেজে তদন্ত করতে আসে। তদন্ত শেষে তারা তাদের প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন। দীর্ঘ ১২৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মুরারিচাঁদ কলেজ (এমসি) কলঙ্কিত করেছে তারা।


ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৩, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // এস বি এই লেখাটি ৪৪৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন