সর্বশেষ
বৃহঃস্পতিবার ১৩ই ফাল্গুন ১৪২৭ | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

উইটসা অ্যাওয়ার্ড জয়ীদের সম্মাননা দিল বিসিএস

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৯, ২০২০

Award.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

তথ্যপ্রযুক্তির অলিম্পিক খ্যাত ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অব আইটি (ডব্লিউসিআইটি ২০২০) এ ‘উইটসা আইসিটি এক্সসিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ সম্প্রতি মালয়েশিয়াতে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৯টি বিভাগের মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দেশের ছয়টি তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সম্মাননা অর্জন করে।

২৮ ডিসেম্বর সোমবার এ উপলক্ষে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারের বিসিসি অডিটরিয়ামে ‘উইটসা অ্যাওয়ার্ড সেলিব্রেশন ২০২০’ আয়োজন করে।

বিসিএস সভাপতি মো. শাহিদ-উল-মুনীরে সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের(আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ভার্চুয়ালে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এন এম জিয়াউল আলম এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) নির্বাহী পরিচালক পার্থ প্রতিম দে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সার্ভিসেস অ্যালায়েন্স’র (উইটসা) চেয়ারম্যান ইয়ানিস সিরোস, সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান ইভোনি চিউ এবং একই সংগঠনের মহাসচিব ড. জেমস এইচ. পয়সান্ট।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন,  এই কোভিডকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের আর্কিটেক্ট সজীব ওয়াজেদ জয়ের সহযোগিতা, সুপরামর্শ এবং তত্ত্বাবধানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক এবং বিচারিক কার্যক্রম সাড়ে নয় মাস চালু রাখতে পেরেছি। ফলস্বরুপ আমরা উইটসার কাছ থেকে স্বীকৃতি পেয়েছি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজীব ‍ওয়াজেদ জয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, আমরা অনুকরণ করব না, আমরা উদ্ভাবন করব। উদ্ভাবনী এবং সৃজনশীলতা দিয়েই জ্ঞান ভিত্তিক উন্নত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলব।

তিনি আরো বলেন, ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইনোভেশন ডিজাইন অ্যান্ড এন্টারপ্রনোউরশিপ একাডেমি তৈরি করে দিয়েছিলেন। সেই একাডেমি মাত্র চার বছরের মধ্যে একটি দুইটি নয়, একশ আটান্নটি কোম্পানিকে মনিটরিং, মেন্টরিং এবং ফান্ডিং করে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহযোগিতা করেছে।

আইসিটি ডিভিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব এন এম জিয়াউল আলম বলেন, বর্তমান সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রযুক্তির কল্যাণে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে আজ প্রযুক্তির সুফল দুর্গম গ্রামেও বিদ্যমান। প্রযুক্তি খাতের সফলতার কারণে দেশে কর্মসংস্থান বেড়েছে। দক্ষ মানবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বেকারত্বের হার অনেকাংশে কমে গেছে। শহর গ্রামের পার্থক্য আজ নেই বললেই চলে। আইসিটি খাতে ৫ বিলিয়ন ডলার উপার্জনের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে আমাদের যাত্রা চলমান। সেদিন আর বেশি দুরে নয়, যেদিন আমরা এই লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে নিজেদের অনন্য স্থানে নিয়ে যাবো।

বিসিসি নির্বাহী পরিচালক পার্থ প্রতিম দে বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যে চ্যালেঞ্জ আসছে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আমাদের বাংলাদেশের যে লক্ষ্য ২০৪১ সালে একটা উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলব। সেক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে ডিজিটাল বাংলাদেশ। কিছুদিন আগে ভার্চুয়ালে মালয়েশিয়াতে উইটসার যে কংগ্রেস হয়ে গেলে সেখানে আমাদের বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছয়টি টিম দেশের জন্য সম্মাননা এনে দিয়েছে। এটা আমাদের গৌরবের বিষয়।

উইটসা চেয়ারম্যান ইয়ানিস সিরোস বলেন, বিসিএসসহ বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো করোনাকালে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তারই স্বীকৃতি উইটসা অ্যাওয়ার্ড।

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অগ্রগতির প্রশংসা করে উইটসার মহাসচিব ড. জেমস এইচ. পয়সান্ট বলেন, বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে আগামীর বিশ্বকে প্রযুক্তি খাতে নেতৃত্ব দেয়ার দাবিদার।

অনুষ্ঠানে ছয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা তুলে দেন অতিথিরা। এসময় বিজয়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতাগুলো উপস্থাপন করেন।

সভাপতির বক্তব্যে বিসিএস সভাপতি মো. শাহিদ-উল-মুনীর বলেন, উইটসা অ্যাওয়ার্ড তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অব আইটি (ডব্লিউসিআইটি) কে বলা হয় তথ্যপ্রযু্ক্তির অলিম্পিক। ডব্লিউসিআইটি সম্মেলনে প্রতিবছর পৃথিবী জুড়ে তথ্যপ্রযুক্তিতে অবদান রাখার জন্য এই খাতের বিভিন্ন মানুষ এবং প্রতিষ্ঠানকে উইটসা সম্মাননা প্রদান করে। ২০২০ এ উইটসা অ্যাওয়ার্ডের ৯টি বিভাগের বিভিন্ন ক্যাটগরিতে ছয়টি আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জন করার গৌরব আমরা অর্জন করেছি।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) এর মনোনীত প্রকল্পগুলোর মধ্যে কোভিড ১৯ টেক সলিউশনস ফর সিটিজ অ্যান্ড লোকালিটিজ বিভাগে সিনেসিস আইটি লিমিটেড ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের এটুআই এর যৌথ প্রকল্প, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ বিভাগে সরকারের ইনোভেশন ডিজাইন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ একাডেমি (আইডিয়া) প্রকল্প, ইনোভেটিভ ই-হেলথ সলুসনস বিভাগে মাইসফটের মাই হেলথ বিডি, ভার্চ্যুয়াল হসপিটাল অব বাংলাদেশ এবং ই-এডুকেশন অ্যান্ড লার্নিং বিভাগে বিজয় ডিজিটাল অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে। ডিজিটাল অপরচুনিটি অর ইনক্লুশন বিভাগে নগদ এবং সাসটেইনেবল গ্রোথ বিভাগে ডিভাইন আইটি লিমিটেডের প্রিজম ইআরপি’কে মেরিট অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করা হয়। আমি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীদের স্বাগত জানাই। তাদের উদ্ভাবন দেশের প্রযুক্তি খাতকেও প্রভাবিত করেছে এবং ভবিষ্যতে করবে।

অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিসিএস এর সহসভাপতি মো. জাবেদুর রহমান শাহীন, মহাসচিব মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব মো. মুজাহিদ আল বেরুনী সুজন, কোষাধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, পরিচালক মোশারফ হোসেন সুমন ও মো. রাশেদ আলী ভূঁঞাসহ বিসিএস সদস্য, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

 


ঢাকা, মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৯, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // উ জ এই লেখাটি ৪৬৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন